তারেক জিয়া (বিএনপি)’র নতুন সরকারের কাছে বাংলাদেশী দের প্রত্যাশা- ড. না. আদদ্বীন.
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই অর্থনৈতিক চাপ, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও প্রশাসনিক দুর্বলতার সম্মুখীন। ফলে যে-ই নতুন করে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিক, জনগণের প্রত্যাশার মানদণ্ড প্রায় একই থাকে—স্বচ্ছতা, স্থিতিশীলতা ও জবাবদিহি।
নাগরিকের এই প্রত্যাশাগুলো আরও ভালোভাবে বোঝা যায় দেশের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে।
গণতান্ত্রিক কাঠামো: বিশ্বাস পুনর্গঠনের প্রয়োজন
বাংলাদেশে রাজনৈতিক আস্থার সংকট বহুদিন ধরেই আলোচিত।
- আন্তর্জাতিক IDEA-এর Global State of Democracy সূচকে বাংলাদেশ ২০২4 সালে 118তম স্থানে (search_web সূত্র)।
- RSF-এর Press Freedom Index 2024-এ অবস্থান 165তম (search_web সূত্র)।
এই পরিসংখ্যান দেখায়—গণতান্ত্রিক মানদণ্ড শক্তিশালী করা এখন জরুরি। জনগণের মূল চাহিদা:
- স্বাধীন নির্বাচন,
- মতপ্রকাশের স্বাধীনতা,
- রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা।
অর্থনীতি: মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রা চাপ
অর্থনৈতিক সূচকগুলিই সাধারণ মানুষের জীবনকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী:
- বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে ২০২4 সালে গড় মূল্যস্ফীতি 9%–9.5%–এর ঘরে নেমে আসেনি (search_web)।
- একই বছরে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়ায় প্রায় $20–21 বিলিয়ন, যেখানে 2021 সালে তা ছিল $48 বিলিয়ন (search_web)।
- যুব বেকারত্বের হার 12%–14%, যা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যেও অন্যতম উচ্চ (ILO data, search_web)।
এই বাস্তবতায় জনগণের প্রত্যাশা স্পষ্ট—
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ডলার বাজার স্বাভাবিকীকরণ, এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
দুর্নীতি ও সুশাসন: দীর্ঘমেয়াদি প্রতিবন্ধকতা
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (TI)-এর তথ্য অনুযায়ী:
- Corruption Perceptions Index 2024-এ বাংলাদেশ 149তম (search_web)।
এই অবস্থান পরিষ্কার করে—স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব এখনো গুরুতর সমস্যা।
জনগণ আশা করে—
- স্বচ্ছ সরকারি ক্রয়,
- রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রশাসন,
- স্বাধীন ও কার্যকর দুর্নীতি দমন কাঠামো।
আইনের শাসন: আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ
World Justice Project-এর Rule of Law Index 2024 অনুসারে—
- বাংলাদেশ 127টির মধ্যে 124তম স্থানে (search_web)।
এত নিম্ন অবস্থান বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতা, মানবাধিকার রক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্বচ্ছতার ওপর প্রশ্ন তোলে।
যে কারণে মানুষ চায়—
- পেশাদার ও জবাবদিহিমূলক আইনপ্রয়োগ,
- মানবাধিকার সুরক্ষা,
- মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি।
সামাজিক খাত: উন্নয়ন-অর্জন ও চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশ বহু সামাজিক সূচকে অগ্রগতি করেছে, তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়:
- UNICEF-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখনো 28% শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে (search_web)।
- UNESCO জানায়, উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হার মাত্র 24% (search_web)।
- স্বাস্থ্যখাতে GDP-এর মাত্র 2.5% ব্যয় হয়, যা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় অনেক কম (search_web)।
অতএব শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে বাস্তবসম্মত বাজেট বরাদ্দ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার অপরিহার্য।
পররাষ্ট্রনীতি: ভারসাম্য বজায় রাখাই প্রধান চ্যালেঞ্জ
- বাংলাদেশে রেমিট্যান্স আয় 2024 সালে ছিল প্রায় $22 বিলিয়ন, যা GDP-এর ~6% (World Bank, search_web)।
- মোট জনশক্তির প্রায় 13 মিলিয়ন বৈদেশিক কর্মসংস্থানে (BMET data)।
যে কারণে জনগণের প্রত্যাশা—প্রবাসীদের সুরক্ষা, কূটনৈতিক ভারসাম্য ও বাণিজ্যের বহুমুখীকরণ।
উপসংহার
পরিসংখ্যানগুলো স্পষ্ট করে—নতুন সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ বড়, আর প্রত্যাশাও ততটাই উচ্চ।
নাগরিকেরা আশা করে—
স্বচ্ছতা, দক্ষতা, ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ।
দেশকে এগিয়ে নিতে নেতৃত্বকে কথার বেশি, কাজের মাধ্যমে বিশ্বাস অর্জন করতে হবে।
লেখক,
ড. না. আদদ্বীন,
অধ্যাপক ও গবেষক
Email: opunasir@gmail.com